ব্যক্তিগত পরিচিতি
নাম, বয়স ও শারীরিক বিবরণবিপত্নীক। স্ত্রী মারা গেছেন প্রায় তিন বছর হলো।
প্রকৃত বয়স ৬৪ বছর হলেও, শারীরিক গঠন দেখে বোঝা যায় না যে বয়স ৫০-এর বেশি।
৫ ফিট ২ ইঞ্চি থেকে ৫ ফিট ৩–৪ ইঞ্চির মধ্যে হতে পারে — সঠিকভাবে পরিমাপ করা হয়নি।
আনুমানিক ৫০–৬০ কেজির মধ্যে হবে।
জানা নেই।
বাংলাদেশী।
ঠিকানা
বসবাসের স্থানদরিরামপুর, ৭নং ওয়ার্ড, ত্রিশাল পৌরসভা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ। (ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার হাইওয়ের পাশে।)
ছোটকাল থেকেই পৈত্রিক জায়গাতেই বড় হয়েছেন। তবে জীবিকার তাগিদে জীবনের অনেক বড় একটা সময় ঢাকার উত্তরাতে থাকা হয়েছিল। ২০১২ সালে স্বপরিবারে গ্রামে ফিরে আসা হয়, এখন গ্রামেই আছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
বাংলা ও দ্বীনি শিক্ষানেই। শুধু স্বাক্ষর জ্ঞান আছে।
নেই। ছোটবেলা থেকে আব্বাকে শুধু শুক্রবারের নামাজ এবং রমজান আসলে রমজানে নামাজ পড়তে দেখা গেছে, তাছাড়া নামাজ পড়তে দেখা যায়নি। তিনি কোরআন পড়তে পারেন না। তবে বিশ্বাস করা হয়, দ্বীনি শিক্ষা দিলে তিনি আস্তে আস্তে শিখতে পারবেন।
পারিবারিক তথ্য
বাবা-মা, ভাই-বোন ও সন্তানমৃত। দাদা বেঁচে নেই।
মৃত। আপন দাদি বেঁচে নেই, তবে সৎ দাদি বেঁচে আছেন।
আপন চাচা কেউ নেই, সকলেই সৎ — সর্বমোট ৪ জন চাচা। তাঁদের একজন প্রবাসী ছিলেন, এখন অবসরে; একজন সিএনজি চালক; একজন ছোট ব্যবসায়ী; আরেকজন অসুস্থ, কিছুই করেন না। ছোটবেলায় তাঁদের আচরণে মনে হয়নি যে তাঁরা সৎ চাচা, বড় হয়ে জানা গেছে তাঁরা সৎ। এছাড়া দুই ফুফু আছেন, দুজনেই বিবাহিত ও শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। এক ফুফা মারা গেছেন, এক ফুফা বেঁচে আছেন।
পাত্রের তিন মেয়ে, দুই ছেলে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে বিবাহিত। এক মেয়ে ও এক ছেলে এখনও বিবাহের বাকি — যিনি এই বায়োডাটা তৈরি করেছেন, তিনি সবার ছোট ছেলে, পেশায় সফটওয়্যার ডেভেলপার। বিবাহিত দুই বোন তাঁদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ সুখেই আছেন। যে মেয়ের বিয়ে বাকি, সে একটি চাকরি করে এবং ডিগ্রি পাস। ছোট ছেলে ও তার বোনের বিবাহের জন্য একজন মহিলা অভিভাবক প্রয়োজন। এছাড়া, আব্বার একজন সঙ্গী হলে তাঁর বাকি জীবনটা সুন্দর হবে — এই ধারণা থেকেই এই খোঁজ। যে বোনের বিবাহ হয়নি, তাঁর একটু মানসিক সমস্যা আছে; আম্মা মারা যাওয়ার পর তাঁর মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। পারিবারিক যত্ন পেলে তিনি পরিপূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে উঠবেন বলে মনে করা হয়। সবশেষে, এক ভাই গার্মেন্টসে চাকরি করেন, স্ত্রী নিয়ে বাড়িতেই থাকেন — তাঁর দুটি সন্তান, দুটিই মেয়ে।
নিম্নমধ্যবিত্ত।
দাদার কাছ থেকে পাওয়া জমিতে হাফ-বিল্ডিং বাড়ি, প্রায় ১৫ বছরের পুরনো। বাড়িতে ৩টি রুম — একরুমে আব্বা থাকেন, আরেক রুমে ছোট বোন, আরেক রুমে বড় ভাই তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকেন। ছোট ছেলে নিজের বাড়ির কাছেই একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন, আলহামদুলিল্লাহ। পারিবারিক জটিলতা পছন্দ নয়; নীরবতা ও শান্তি পছন্দ, তাই বাইরে থাকেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে বাইরেই ভাড়া বাসায় থাকার ইচ্ছা, ইনশাআল্লাহ। বসতভিটা ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই।
দ্বীনি জীবনযাপন ও স্বভাব
ধর্মীয় চর্চা ও ব্যক্তিগত অভ্যাসলুঙ্গি ও শার্ট সবসময় পরেন, মাঝে মাঝে পাঞ্জাবিও পরেন।
আছে, আলহামদুলিল্লাহ। কবে থেকে রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট করে জানা নেই, তবে অন্তত ৩–৪ বছর তো হবেই।
হয়তো পরেন, তবে কখনো খেয়াল করে দেখা হয়নি।
না, নিয়মিত পড়েন না। জুমা ও রমজান আসলে নামাজ পড়েন। জীবিকা অর্জন করতেই জীবন চলে গেছে, ধর্মীয় জ্ঞান খুবই কম।
এই বিষয়টা হয়তো ঠিকভাবে জানেন না। বুঝানোর চেষ্টা করা হয় — আল্লাহ্ বোঝার তৌফিক দান করুন, আমিন।
শুদ্ধভাবে পারেন না।
হানাফি।
নাহ উনার এইসব দেখার সুযোগ নাই। কারন বাসায় টিভি নাই এবং উনি বাটন ফোন ব্যবহার করে।
নেই।
আপাতত যুক্ত নেই।
এ বিষয়ে তিনি কী মনে করেন, তা জানা নেই।
ধূমপান করেন এবং পান খান। বারবার নিষেধ করায় এখন অনেকটা কমেছে। সম্পূর্ণভাবে এটা দূর হবে কিনা আল্লাহ্ই ভালো জানেন — তবে ধূমপানকে অত্যন্ত অপছন্দ করা হয়।
এখনও সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল। টাকা-পয়সার সহায়তার জন্য কারও মুখাপেক্ষী হন না।
পেশাগত তথ্য
কর্মসংস্থান ও আয়বর্তমানে একটি তেলের পাম্পে নাইট গার্ডের চাকরি করেন — বাড়ির সামনেই পাম্প।
মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি গাড়ি থেকে গড়ে ১০০ টাকা করে পান, দৈনিক গড়ে ৫–৮টি গাড়ি থাকে পাম্পে। এছাড়া বেসিক বেতন ৫ হাজার টাকা — সব মিলিয়ে ১৫–২০ হাজার টাকা হয়। ইচ্ছা আছে তাঁকে একটি মুদির দোকান নিয়ে দেওয়ার, কারণ এই চাকরিটা তাঁর জন্য কষ্টকর — তিনি নিজেও মাঝে মাঝে তা বলেন। পরিবারটা একটু গুছিয়ে নিতে পারলেই দোকানটা নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।
বিবাহ সম্পর্কিত তথ্য
পরিবারের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনাসব ছেলে-মেয়ে রাজি। বরং সব ভাই-বোন মিলে আব্বার জন্য পাত্রী খুঁজছেন।
না, প্রয়োজন নেই। আব্বার আয়ে সংসার ভালোভাবেই চলবে ইনশাআল্লাহ, আর ছেলে-মেয়েরাও সাপোর্টের জন্য আছেন।
গ্রামের বসতভিটাতেই।
আমরা ভাই-বোনেরা মা হারিয়েছি। আমাদের শুধু একটু মায়ের অধিকার দিয়ে, সন্তানের মতো আচরণ করলেই চলবে — আমাদের জীবনে আর কিছুই লাগবে না।